ইস্কাত ই সালাত

 

ইস্কাত সালাত



মৃত ব্যাক্তির জন্য ইসকাত

নূরুল ইজাহতাহতাভীনামক গ্রন্থের হাশিয়া (টিকা)তে,‘হালেবীদুররুল মুহতারনামক গ্রন্থে ক্বাজা নামাজ সম্পর্কিত অধ্যায়ের শেষভাগে,  মুলতিকা’,‘দুররুল মুন্তিকা’,‘য়ীকায়ে’,‘দুরারজাওহারানামক গ্রন্থসহ আরো অনেক মূল্যবান কিতাবে রোজা সম্পর্কিত আলোচনার শেষে মৃত ব্যক্তির অসিয়ত অনুযায়ী ইস্কাত করার আবশ্যকীয়তার ব্যাপারে বর্ণনা করা হয়েছে যেমন,‘তাহাভীনামক গ্রন্থের হাশিয়াতে বর্নিত আছে যে,ফরজ রোজা আদায় করা সম্ভব না হলে ফিদিয়া দিয়ে ইসকাতের দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়ার) ব্যাপারে নাস্ (সরাসরি কোরআন বা হাদিসের দলিল) রয়েছে নামাজ রোজার চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শরীয়তসম্মত কোন উজরের কারণে যদি কেউ সময়মত তা আদায় করতে না পারে এবং পরবর্তীতে ক্বাজা আদায়ের ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও মরনব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে অপারগ হলে রোজার মত তার ক্বাজা নামাজগুলির জন্যও ইসকাত করা উচিত ব্যাপারে আলেমদের মাঝে কোন দ্বিমত নেই যারা বলেন নামাজের ইসকাত নাই তারা আসলে ব্যাপারে জাহিল কেননা তা মাজহাবসমূহের ঐক্যমতের বিরোধীতা করার শামিল হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যে,“ কোন ব্যক্তিই অন্য ব্যক্তির বদলে রোজা রাখতে পারে না,অন্যের নামাজ আদায় করতে পারে না তবে তার রোজা নামাজের জন্য ফকিরকে খাওয়াতে পারে” #

আহলে সুন্নাতের অনুসারী আলেম গণের ফযিলত সম্পর্কে যাদের ধারণা নাই এবং যারা মনে করে যে মাজহাব ইমামগণ তাদের মত মনগড়া কথা বলেন, তাদের নিকট থেকেইসলামে ইস্কাত দাওর এর স্থান নাই ইস্কাত খৃষ্টানদের পাপমোচনের অনুরূপজাতীয় বক্তব্য শুনতে পাওয়া যায় এই ধরণের বক্তব্য তদেরকে বিপজ্জনক অবস্থার দিকে ঠেলে দেয় কেননা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে,“আমার উম্মত,দালালাত তথা পথভ্রষ্টতার উপর ঐক্যমত পোষণ করবে না এই হাদিস শরীফটি, মুজতাহিদগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন এমন বিষয়ের সঠিক হওয়ার ব্যাপারে দলিল হিসেবে ভূমিকা রাখে অতএব মুজতাহিদগণের ঐক্যমতের বিরোধিতাকারীরা মূলত এই হাদিসের অস্বীকারকারী হিসেবে বিবেচিত হবে

হযরত ইবনে আবিদীন বিতরের নামাজের আলোচনার সময় বলেছেন যে, “দ্বীনের আবশ্যকীয় বিষয়সমূহ তথা সাধারণের দ্বারাও জ্ঞাত ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন বিষয়সমূহকে অবিশ্বাসকারী ব্যক্তি কাফিরে পরিণত হয় কোন বিষয়ে আলেম গণের ঐক্যমত পোষণ করার প্রক্রিয়াকে ইজমা বলা হয়৷ ইসকাতের বিষয়কে কি করে খৃষ্টানদের পাপমোচনের সাথে তুলনা করা যায়, তাদের ধর্মযাজকগণ, পাপমোচনের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করে তাদের অর্থ সম্পদ লুটে নেয় অথচ,ইসলামে ইমাম কিংবা আলেমগণ ইস্কাত করে না বরং মৃতের উত্তরাধিকারীগণ করতে পারে আর অর্থ কড়ি ইমাম বা আলেমকে নয় বরং ফকিরদেরকে প্রদান করা হয়

আজকাল প্রায় সব যায়গায় ইস্কাত দাওর প্রক্রিয়া ইসলাম অনুযায়ী করা হয় না ইসলামে ইস্কাত নাই যারা বলে তারা তা না বলে যদি বলত,বর্তমানে যেভাবে ইস্কাত করা হয় তা ইসলাম সম্মত নয়, তবে ভাল হত সেক্ষেত্রে আমরাও তাদের সমর্থন করতাম এরূপ বলার মাধ্যমে তারা খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারত, একইসাথে ইসলামের খেদমতও করতে পারত নিম্নে,ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী ইস্কাত দাওর প্রক্রিয়া কিভাবে করতে হয় তা বর্ণনা করা হলো:

হযরত ইবনে আবিদীন,ক্বাজা নামাজের আলোচনার শেষে বলেছেন যে,যে ব্যক্তির ফায়িতা অর্থাৎ শরয়ী উজরের কারণে আদায় করতে না পারায় নামাজ ক্বাজা হয়েছে এমন) নামাজ রয়েছে এবং সে নামাজগুলি ইশারার মাধ্যমে আদায় করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও আদায় না করে থাকলে, মৃত্যুর সময় এর কাফফারা পরিশোধের জন্য উত্তরাধিকারীদেরকে অসিয়ত করে যাবে, এটা তার উপর ওয়াজিব আর যদি কোনোভাবেই ক্বাজা আদায়ের সামর্থ্য না থাকে,তবে তার জন্য অসিয়ত করা আবশ্যক হবে না একইভাবে মুসাফির কিংবা অসুস্থ হওয়ার কারণে পবিত্র রমজান মাসের রোজা ভঙ্গ করলে এবং পরবর্তীতে সেই রোজাগুলির ক্বাজা আদায়ের সময় কিংবা সুযোগ না পেয়েই মৃত্যুমুখে পতিত হলে,তার জন্যও অসিয়ত করা জরুরী হবে না মহান আল্লাহ তায়ালা ইনশাল্লাহ তাদের উজরকে কবুল করবেন অসুস্থ ব্যক্তির কাফফারাসমূহের ইস্কাত মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীগণ করবেন মৃত্যুর পূর্বে কারো জন্য ইসকাত করা যায় না জীবিত ব্যক্তিরও নিজের জন্য ইসকাত করা জায়েজ নয়জিলাউল কুলুবনামক গ্রন্থে বর্নিত আছে যে,‘যার উপর মহান আল্লাহ তায়ালার হক্ব কিংবা বান্দার হক্ব রয়েছে তার উপর ওয়াজিব হলো,দুইজন সাক্ষীর সামনে তা পরিশোধের জন্য অসিয়ত করা অথবা লিখে তাদের সামনে পাঠ করা যার উপর কারো হক্ব নাই তার জন্য অসিয়ত করা মুস্তাহাব' ' কাফফারার ইসকাতের জন্য অসিয়ত করে যাওয়া মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী অথবা অসিয়ত পূরণের জন্য যাকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে সে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ তথা মিরাছের তিনভাগের একভাগ সম্পদ থেকে, ক্বাজা হওয়া বিতরসহ প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজের জন্য এবং রমজানের প্রতিদিনের রোজার জন্য এক ফিতরা তথা অর্ধ সা' (এক কেজি সাতশ পঞ্চাশ গ্রাম)পরিমাণ আটা বা চাল ফকিরদের মাঝে ফিদিয়া হিসেবে দান করবে

কাফফারার ইসকাতের জন্য অসিয়ত করে না গেলে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণের উপর তার জন্য ইসকাত করা, হানাফী মাজহাব অনুযায়ী জরুরী নয় তবে শাফিঈ মাজহাব অনুযায়ী অসিয়ত না করে গেলেও ওয়ারিশদের উপর তার জন্য ইসকাত করা আবশ্যক বান্দার হক্বের ক্ষেত্রে,অসিয়ত না করে গেলেও মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে পরিশোধ করা তার ওয়ারিশদের উপর,হানাফী মাজহাব অনুযায়ীও আবশ্যক এমনকি পাওনাদারগণ,মিরাছ থেকে নিজেদের পাওনা পরিমাণ সম্পদ হস্তগত হলে,আদালতে না যেয়েও তা গ্রহণ করতে পারে মৃত ব্যক্তি তার ক্বাজা রোজার ফিদিয়া দেয়ার জন্য অসিয়ত করে গেলে, তার ওয়ারিশদের উপর তা তার সম্পদ থেকে পরিশোধ করা ওয়াজিব হয় কেননা ইসলামিয়াত তা পরিশোধের জন্য আদেশ করে আর যদি অসিয়ত না করেই মৃত্যুবরণ করে তবে তা পরিশোধ করা ওয়াজিব নয় কিন্তু করলে জায়েজ হবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, এই ফিদিয়া নামাজ বা রোজার কাফফারা হিসেবে কবুল না হলেও এর দ্বারা সদকার সওয়াব ইনশাল্লাহ হাসিল হবে, যা ব্যক্তির গুনাহ মাফের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এটি ইমাম মুহাম্মদ ()এর বক্তব্য

এব্যাপারেমাজমাউল আনহুর' নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ‘নাফস্ শয়তানের অনুসরণ করে নামাজ ত্যাগকারী ব্যক্তিজীবন ছায়াহ্নে এসে এর জন্য অনুতপ্ত হয়ে (ক্বাজা নামাজগুলি আদায় করতে শুরু করে এবং যত ওয়াক্ত ক্বাজা আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না তার জন্য ইসকাতের অসিয়ত করে, তা জায়েজ হবে না' তবে ইমাম শাফিঈ () এরমুসতাফানামক কিতাবে, এব্যাপারে জায়েজ বলা হয়েছে

জিলাউল কুলুবনামক কিতাবে বলা হয়েছে যে বান্দার হক্বের মধ্যে ঋণ, আমানত চুরি-ডাকাতি করে অর্জিত সম্পদ, কর্মচারীর বেতন ক্রয়কৃত মালের কিংবা ভোগকৃত সেবার মূল্য ইত্যাদি আর্থিক হক্ব কাউকে অন্যায়ভাবে আঘাত করা,প্রহার করা,ক্ষতবিক্ষত করা ইত্যাদি শারীরিক হক্ব আর কাউকে গালি দেয়া, অপমান করা কিংবা কারো সম্বন্ধে গীবত করা,অপবাদ দেয়া ইত্যাদি হলো ক্বালবী হক্ক অসিয়ত করে যাওয়া মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদের একতৃতীয়াংশ দ্বারা যদি ইসকাত করা সম্ভব হয় তবে পরিমাণ মাল অসিয়ত পূরণের জন্য পরিশোধ করা তার ওয়ারিশদের উপর ওয়াজিব হবে আর যদি তা অসিয়ত পূরণের জন্য যথেষ্ঠ না হয় তবে একতৃতীয়াংশের অধিক সম্পদ থেকে পরিশোধ করা ওয়ারিশগণের উপর ওয়াজিব হবে না তবে জায়েজ হবেফাতহুল কাদিরকিতাবে এরূপ উল্লেখ আছে একইভাবে হজ্জ ফরজ হয়েছে এমন ব্যক্তি হজ্জ করার জন্য কাউকে অসিয়্যত করলে এবং তার ওয়ারিশ কিংবা অন্য কেউ হজ্জের খরচ দান করলে তা জায়েজ হবে না তবে মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত না করে গেলে,ওয়ারিশ যদি নিজের সম্পদ দিয়ে তার জন্য ইসকাত করায় হজ্জে যায় তবে মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধিত হবে ওয়ারিশ ব্যতীত অন্য কারো সম্পদ দিয়ে তা জায়েজ নয় বলা হলেওদুররুল মুখতার’,‘মারাকিল ফালাহজিলাউল কুলুব' নামক কিতাবগুলিতে জায়েজ হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে

কাফফারার ক্ষেত্রে আটার বদলে ময়দা কিংবা খেজুর, আঙ্গুর ইত্যাদিও দেয়া যায় (কেননা এগুলো আটার চেয়ে অধিক মূল্যবান এগুলো পরিবর্তে স্বর্ন বা রূপাও প্রদান করা যায় কাগজের টাকা দিয়ে ইসকাত জায়েজ নয় সিজদাই তিলাওয়াতের জন্য ফিদিয়া দিতে হয় না

ইসকাত দাওর করার পদ্ধতি

যদি ফিদিয়ার অর্থ একতৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি হয় তবে ওয়ালি উত্তরাধিকারিদের অনুমোদন ছাড়া একতৃতীয়াংশের বেশি খরচ করতে পারবে না কুনিয়া কিতাবের মধ্যে লেখা হয়েছে, মৃতের যদি ঋণ নিয়ে সন্দেহ থেকে থাকে, তবে তার উত্তরাধিকারীর উইল সম্পন্ন করতে পারবেন ইসলামে নির্দেশ আছে প্রথমে ঋণ আদায় পরিশোধ করতে হবে ঋণদাতাদের সম্মতিতে এটি অপরিশোধিত রাখা যাবে না

যদি মৃতের বয়স না জানা যায় বা ঠিক কি পরিমান নামাযের ইশাকাত আদায় করতে হবে, তার উইল গ্রহণযোগ্য হবে যদিও তার সম্পদের পরিমানের একতৃতীয়াংশ ইসকাত আদায়ের জন্য অপর্যাপ্ত হয়,যত সংখ্যক নামাযের জন্য ইসকাত আদায় করতে হবে তা ওই এক তৃতীয়াংশ দিয়ে আদায় করতে হবে এবং এতে করে ওই নামাজগুলোর ইসকাত সহি হবে, তার উইলে উল্লেখিত অন্যান্য নামায লাঘব হবে যখন একতৃতীয়াংশ অতিরিক্ত হবে, তার পুরো বয়স এবং নামাযের সংখ্যা অজানা থাকবে তখন উইল কার্যকর হবে না

যদি উক্ত বাক্তির কোন সম্পদ না থাকে, অথবা তার সম্পদের একতৃতীয়াংশ সম্পদ ইসাকাতের জন্য অপ্রতুল হয় এবং কোন উইল করে না যান কিন্তু তার উত্তরাধিকারি তার ইস্কাত আদায় করতে চান তবে তিনি দার করবেন কিন্তু উত্তরাধিকারিকে দার আদায় করতে হবে না দার আদায়ের জন্য তিনি এক বছর অথবা এক মাসের ইসাকাতের জন্য প্রয়োজনীয় স্বর্ণ সিলভার কয়েন, ব্রেস্লেট অথবা আংটি জোগাড় করবেন যদি মৃত ব্যক্তি হয় তবে ১২ বছরের জন্য, যদি মৃত নারী হয় তবে বছর হিসেবে ঋণের মোট হিসেব করতে হবে দশ কেজি গম আকদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য এবং তিন হাজার ছয়শত গ্রাম প্রতি সৌর বছরের জন্য উদাহরণস্বরূপ, যখন এক কেজি গম ,৮৫ টাকা, একবছরের ইসকাত নামাযের জন্য ছয় হাজার ছয়শত অষ্টাশি টাকার প্রয়োজন ধরা যাক প্রত্যেকটি সোনার কয়েনের মূল্য একশত বিশ টাকা, ইসকাত আদায়কারী বাক্তি এক বছরের ইসাকাতের জন্য পাঁচটি স্বর্ণমুদ্রা সংগ্রহ করবেন যেগুলোর ওজন সাত গ্রাম এবং বিশ সেন্টিমিটার, চারজন মানুষ যারা দুনিয়াবি আশা রাখেন না এবং যারা জানে এবং ধর্ম ভালবাসে [এই মানুষগুলো এমন হবে, যাদেরকে ফিতরা এবং জাকাত দেয়া যায়, যদি তারা এমন গরিব না হয় সেই ইসকাত গ্রহণযোগ্য হবে না] মৃত ব্যক্তির অভিভাবক, ওই বাক্তিকে প্রথম পাঁচটি স্বর্ণমুদ্রা দিবেন আমলের নিয়তে এবং বলবেন, আমি তোমাকে এই স্বর্ণ অমুক মৃত ব্যক্তির সালাতের ইসকাতের নিয়তে ডান করছি অতপর গরিব মানুষটি স্বর্ণ মুদ্রা গ্রহণ পূর্বক বলবেন, আমি গ্রহণ করছি এবং নিচ্ছি এবং আপনাকে প্রদান করছি অতঃপর ইসকাত প্রদানকারী পুনরায় গরিব মানুষটিকে ফেরত দিবেন এভাবে দ্বিতীয় এবং পরবর্তী মানুষকে দেবেন

তাই, একটি দার তখনই পূর্ণ হবে যখন একই বাক্তিকে চারবার দিতে হবে অথবা, চার বাক্তিকে একই সাথে দিতে হবে এবং ফেরত নিতে হবে

বিশটি স্বর্ণ মুদ্রার মাধ্যমে সালাতের কাফফারা আদায় হবে

যদি মৃত ব্যক্তি ৬০ বছর বয়স্ক হয়,

৪৮ ×৬০= ২৮৮০ টি স্বর্ণ মুদ্রা ৪৮ বছরের সালাতের জন্য দিতে হবে

তাহলে মোট ২৮৮০/২০= ১৪৪ বার দার আদায় করতে হবে

যদি স্বৰ্ণ মুদ্রার সংখ্যা দশ হয়, ৭২ টি দার প্রদান করতে হবে,

যদি স্বর্ণ মুদ্রার সংখ্যা বিশ হয়, ৬৩ টি দার সম্পন্ন করতে হবে,

যদি গরিব মানুষের সংখ্যা দশ হয় এবং স্বর্ণ মুদ্রাও দশ হয়, ৪৮ বছরের সালাতের জন্য ইসাকাতের কাফফারাত আদায় হবে কারণ যে বছরগুলোতে নামায আদায় করা হয়নি x এক বছরের জন্য স্বর্ণ মুদ্রা =গরিব মানুষের সংখ্যা × স্বর্ণমুদ্রার সংখ্যা x দারের সংখ্যা

আমরা যে উদাহরণ দিয়েছি তার জন্য প্রযোজ্য এই হিসেব

৪৮x৬০=xx১৪৪=x১০x৭২=x২০x৩৬=১০x১০x২৯

এটি যেভাবে করা হয়েছে,ইসাকাতের দারের মোট সংখ্যা জানার জন্য, এক বছরের স্বর্ণ মুদ্রা কে মৃতের সালাতের বয়সকে গুণ করতে হবে

এরপরে স্বর্ণমুদ্রার সংখ্যাকে গরিব মানুষের সংখ্যা দিয়ে গুণ করতে হবে প্রথম ফল কে এবার দ্বিতীয় ফল দিয়ে ভাগ করতে হবে এই ফলাফল দারের সংখ্যা নির্দেশ করে গম এবং স্বর্ণ কাগজের টাকায় সমপরিমান প্রায় সময়ের ভেদে অন্য কথায়, এই দুতির মূল্যস্ফীতি ঘটতে পারে এই কারনে, এক বছরের গমের পরিমানের ইসকাত পরিবর্তন হয় না, তাই এক বছরের স্বর্ণের মুদ্রার সংখ্যা ইসকাত ষাট স্বর্ণ মুদ্রা, যা আমারা উপরে হিসেব করেছি, তা একই পরিমান থাকে তাছাড়া, ইসাকাতের হিসেবে গ্রহণযোগ্য হিসেব হলো, বাতিক্রমি কিছু সমাধান রয়েছে, এক মাসের সালাতের জন্য পাঁচটি স্বর্ণ মুদ্রা রমজান মাসের রোজার জন্য টি স্বর্ণ মুদ্রা এভাবে স্বর্ণ মুদ্রার সংখ্যা গননা করা হয়, এই উনুপাতেই হিসেব করা হয় নামাযের ইসকাত আদায়ের পর ৪৮ বছরের রজার ইসকাত আদায় করতে হবে, যেগুলোর ক্বাযা অবশ্য আদায় করতে হবে, তিনি টি দার টি স্বর্ণ মুদ্রা এবং জন গরিব মানুষের মাধ্যমে আদায় করবেন বছরের ৩০ রোজার ইসাকাতের কাফফারাতের জন্য সাড়ে বায়ান্ন কেজি গম, সোয়া পাঁচ গ্রাম সোনা এছাড়া, হানাফি মাজহাবের মতে, একটি স্বর্ণ মুদ্রা এক বছরের রোজার কাফফারাতের জন্য যথেষ্ট, এবং ৪৮ বছরের জন্য ৪৮টি স্বর্ণ মুদ্রা দিতে হবে, পাঁচটি স্বর্ণ মুদ্রায় একটি দার এবং চারজন গরিব মানুষের মাধ্যমে দার পূর্ণ করার অর্থ ২০ টি স্বর্ণ মুদ্রা দান করা ক্বাযা রোজার ইসাকাতের পর আর কিছু ইসকাত আদায় করতে হবে, যাকাতের জন্য এরপর কুরবানির জন্য

শপথের কাফফারা আদায়ের জন্য একদিনে দশ জন গরিব মানুষের প্রয়োজন, এবং কোন কারণ ছাড়ায় একটি রোজা ভঙ্গের কাফফারার জন্য ষাট জন গরিব মানুষের প্রয়োজন একদিনে, একজন মানুষকে এক শা এর অর্ধেকের বেশী গম দেয়া যাবে না কোন ভিন্ন ভিন্ন শপথের কাফফারায় একই দিনে দশ জন মানুষকে দেয়া যাবে না রোজা এবং শপথের কাফফারার দাওর একদিনে করা যাবে না যদি মৃত ব্যক্তি তার নির্দিষ্ট কোন শপথ উল্লেখ করে থাকেন, তবে তার জন্য দুই কেজি গম অথবা আটা, অথবা তার সমপরিমান মুল্যের স্বর্ণ অথবা সিল্ভার একদিনে দশ জন গরিব বাক্তিকে দিতে হবে অথবা, আপনি একই বাক্তিকে পরপর দশ দিন একই পরিমানে দিতে পারেন, অথবা এই পরিমান অর্থ কোন গরিব মানুষকে দেয়ার সময় বলতে হবে, “আমি আপনাকে আমার সহকারি নিজুক্ত করলাম এই অর্থের সাহায্যে আপনি খাবার কিনতে পারবেন, দশ দিনের খাবার কিনবেন সকাল এবং রাতের জন্য!” যদি সে অন্য কিছু কেনে যেমন কফি অথবা পত্রিকা, তবে তা গ্রহণ যোগ্য হবে না এটি সবচেয়ে ভালো হবে যদি কোন খাবার দকানে এই মূল্য পরিশোধ করা হয় এবং সেখানে বাক্তিকে দশ দিন সকাল সন্ধ্যা খাবার দিতে বলা হয় এই বিষয়টি রোজা ভঙ্গের এবং জিহারের কাফফারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এই দুই ক্ষেত্রে হাফ শা গম অথবা এর সমপরিমান সম্পদ ষাট জন গরিব মানুষের মধ্যে অথবা পরপর ষাট দিন ব্যাপী একজন মানুষকে দুবেলা খাওয়াতে হবে

নির্দিষ্ট করে না বলা কোন যাকাতের ইসকাত আদায়ের প্রয়োজন নেই উত্তরাধিকারীর ইচ্ছে অনুযায়ী যাকাতের ইসকাত আদায়ের অনুমতি দেয় ফতওয়া দাওর আদায়ের সময়, প্রত্যেকবার গরিব মানুষকে স্বর্ণ দেয়ার সম্য ওয়ালি রোজা এবং নামাজের ইসাকাতের নিয়াত করবেন

এবং মানুষটিও বলবেন, “আমি এটি উপহার সরূপ দিলাম,” জখ সরনতি ফেরত দিবেন এবং ওয়ালি বলবেন, “আমি এটি গ্রহণ করলামযদি ওয়ালি ইসকাত আদায় করতে না পারেন, তবে তিনি একজন সাহায্যকারী নিজুক্ত করবেন যিনি মৃত ব্যক্তির ইসকাত আদায় করবেন

ইমাম বিরগিভীর ওয়াসিয়াতনামা কিতাবের শেষ অংশে এবং কাদিযাদে আহমেদ এফেন্দি রাহ্মাতুল্লাহি তা'য়ালার এই কিতাবের ব্যাখ্যায় লেখা আছে : এটি একটি শর্ত, গরিব মানুষটির নিসাব পরিমান সম্পদ থাকবে না তারা মৃত ব্যক্তির আত্মীয় হতে পারেন স্বর্ণ গরিব মানুষকে দেয়ার সময়, ওয়ালি অবশ্যই বলবেন, “আমি অমুকের এত সংখ্যক সালাতের ইসকাত আদায়ের জন্য আপনাকে দিচ্ছি" এবং মানুষটিও অবশ্যই বলবেন, আমি এটি গ্রহণ করলাম তিনি অবশ্যই জানবেন স্বর্ণ গুলো তার যখন সেগুলো তার অধীনে যায় যদি তিনি না জেনে থাকেন, তাকে অবশ্যই তা জানাতে হবে এই গরিব মানুশি দয়ালু হবেন এবং অপর একজন গরীব মানুষকে দান করবেন,এবং বলবেন, “আমি অমুক বাক্তির নামাজের ইসকাত আদায়ের জন্য দিলামএবং যিনি গ্রহণ করলেন তিনিও বলবেন, আমি গ্রহণ করলাম যখন তিনি এগুলো গ্রহণ করবেন তখন থেকে এই সম্পদগুল তার বিবেচিত হবে যদি তিনি এগুলো আমানত বা উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন তবে তা গ্রহণ যোগ্য হবে না এই দ্বিতীয় বাক্তি গ্রহণ করার পর তৃতীয় আরেক জনকে দেবেন এবং বলবেন, আমি একই ভাবে তোমাকে দিলাম এভাবে নামাজ, রোজা, যাকাত, কুরবানি, সাদাকা ফিতা, আদাক, মানুষ এবং অন্যান্য প্রানির হকের দাওর সম্পন্ন করতে হবে

ফাসিদ এবং বাতিল ক্রয় বিক্রয়ে মানুষের হক নষ্ট হয় শপথ এবং রোজার কাফফারায় দাওর করা অনুমোদিত নয় দাওর সম্পন্ন হউয়ার পরে, শেষ বাক্তি যিনি স্বর্ণ গুলো পেয়েছেন তিনি দয়ালু হবেন এবং পুনরায় নিজের ইচ্ছাই ওয়ালির কাছে হস্তান্তর করবেন অভিভাবক সেটি গ্রহণ করবেন এবং বলবেন, আমি এগুলো গ্রহন করলাম যদি বাক্তিটি সম্পদ সমূহ ফেরত না দেন তবে তা বল প্রয়োগ করে গ্রহণ করা যাবে না, কেননা সেগুলো তার সম্পদ৷

অবিভাবকটি এই সকল গরীব মানুষকে কিছু স্বর্ণমুদ্রা অথবা নগদ টাকা বা মৃতের কিছু সম্পদ দান করবেন এবং সওয়াব মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য দুয়া করবেন যদি কোন বাক্তির সন্দেহ থাকে, অথবা অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয় তবে তার দাওরে অংশগ্রহণ উচিত নয় এই জন্য, যখন তিনি এই স্বর্ণের মালিক হবেন সাথে সাথে এই দাওর আদায় করবেন তিনি নিজে আদায় না করে, অন্য কারো কাছে মৃত ব্যক্তির হয়ে কাফফারা আদায়ের দায়িত্ব প্রদান অনুমোদনযোগ্য নয় দাওর আদায় হবে কিন্তু, তিনি পাপী হয়ে যাবেন যদি মৃত ব্যক্তির কোন সম্পদ না থাকে এবং তিনি ওয়ালি কে নির্দেশ দিয়ে যান, তবে সেই দাওর আদায় করা ওয়াজিব নয় মৃতের পূর্বে ব্যক্তির উচিত এমন ভাবে ইসিকাতের জন্য ওসিয়াত করা যেন তার পরিমান তার সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশী না হয় এভাবে দাওর ছাড়ায় ইসিকাত আদায় করা যাবে তিনি পাপী হবেন যদি তিনি নির্দেশ করে যান তার ইসিকাত এক তৃতীয়াংশের কম সম্পদ দ্বারা সম্পন্ন করার জন্য, অথচ তার যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে পঞ্চম সংস্করণ ইবনে আবিদিন কিতাবের ২৭৩ পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, “যদি কোন অসুস্থ ব্যক্তির যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু থাকে, যে কিনা বয়ঃসন্ধি পার করেছে এবং চারিত্রিক ভাবে ভালো, তার কাছেই সম্পদ রেখে যাওয়া উচিত হবে তার মৃত্যু পরবর্তী কাজ সমূহ সম্পাদনের জন্যএই বিষয়ে বেযযাযিয়্যা কিতাবের মধ্যে লেখা রয়েছে, “সম্পদ পাপী এবং চরিত্রহিন সন্তানের কাছে রেখে যাওয়ার চেয়ে, ধর্মীয় কাজে ব্যয় করা উত্তম কেননা সেটি পাপের কাজে ব্যাবহার হতে পারে এজন্য, সম্পদ এরকম সন্তানের জন্য রেখে যাওয়া উচিত নয়, তবে তার জিবিকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন রাখতে হবে

বহু সংখ্যক নামাজ,রোজা,যাকাত, কুরবানী কসমের ক্বাযা কাফফারা রয়েছে এমন ব্যক্তি একতৃতীয়াংশের কম সম্পদ থেকে তা দাওরের মাধ্যমে ইসকাতের জন্য আর বাকী সম্পদ থেকে কুরআন খতম,মিলাদ ইত্যাদি করার জন্য অসিয়্যত করলে জায়েজ হবে না কুরআন করীম তিলাওয়াতের জন্য অর্থ নেয়া বা দেয়া উভয়টিই গুনাহের কাজ কুরআন করীম শিখানোর জন্য অর্থ নেয়া জায়েজ কিন্তু তিলাওয়াতের জন্য জায়েজ নয়

মৃত ব্যক্তির ক্বাযা নামাজ, রোজা ইত্যাদি ওয়ারিশ বা অন্য কারো জন্য আদায় করা জায়েজ নয় তবে নফল নামাজ বা রোজা রেখে এর সওয়াব মৃত ব্যক্তির রূহের প্রতি হাদিয়া করা জায়েজ উত্তম

হজ্জ ফরজ হয়েছে এমন মৃত ব্যক্তি যদি তা আদায়ের জন্য কাউকে অসিয়্যত করে যায়,তবে ব্যক্তির জন্য তা আদায় করা জায়েজ কেননা হজ্জ একইসাথে শারীরিক আর্থিক ইবাদত অন্যের নামে নফল হজ্জ সবসময়ই করা যায় ফরজ হজ্জের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার পরে তার ক্বাযা উকিলের পক্ষ থেকে আদায় করা জায়েজ

মাজমাউল আনহারদুররুল মুনতিকানামক কিতাবে বলা হয়েছে যে মৃত ব্যক্তির জন্য ইসকাত দাফনের পূর্বেই করা উচিতকুহিস্তানীএর মধ্যে দাফনের পরেও জায়েজ বলে উল্লেখ আছে মৃত ব্যক্তির নামাজ, রোজা, যাকাতের ইসকাতের জন্য এক ফকীরকেই নিসাবের চেয়ে অধিক পরিমাণ সম্পদ দান করা জায়েজ এমনকি ইসকাতের সব স্বর্ন এক ফকীরকেও দেয়া সম্ভব

মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির ক্বাযা নামাজের ফিদিয়া প্রদান করা জায়েজ নয় তবে এরূপ ব্যক্তির ক্বাযা রোজার ফিদিয়া দেয়া জায়েজ ব্যক্তির জন্য মাথা দিয়ে ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে হবে এরূপ ইশারার মাধ্যমে যদি পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ আদায় না করা হয় তবে তা ক্ষমা করে দেয়া হবে এর ক্বাযা করতে হবে না পরে সুস্থ হলে না রাখা রোজার ক্বাযা আদায় করতে হবে সুস্থ না হয়েই মারা গেলে আদায় না করা রোজাগুলিও ক্ষমা করে দেয়া হয়

 

 

 

Bengali Darpan

We are the Teacher Group. We help students to build their career and future life . We teach subjects with insper for building a future career .We are a team Group Teacher .our team is strong to guide Bengali Hon. With all Pass & Compulsory paper & Library Science with Dissertation paper BLIS & MLIS .WBSSC, UGC NET & SET, KVS ,WBPSC

Post a Comment

Previous Post Next Post

Copyright (c) 2024 Ramadan Delights India All Rights Reserved